নানুরে রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সাদা থান,ফুলের মালা সহ হুমকী চিঠি। আতঙ্কে পরিবার!•ভবানী ভবনে মুখোমুখি জেরায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায়•মদ্যপ যুবকের তাণ্ডব আরামবাগে! বধূকে নিজের স্ত্রী দাবি করে গেটে লাথি•বন্যা মোকাবিলায় খানাকুলে সচেতনতামূলক মকড্রিল•হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রায় ব্যবসায়ীদের হাতে জাতীয় পতাকা, কোচবিহারে স্বাধীনতা দিবসের আবহ•
ভুয়ো বিলে সই করার চাপ! মহিষাদল রাজ কলেজে পদত্যাগ হিসাবরক্ষকের, তোলপাড় শিক্ষামহল
By Editor: The News Express August 12, 2026
Share:
ভুয়ো বিলে সই করার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তুমুল শোরগোল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী মহিষাদল রাজ কলেজে। অধ্যক্ষের নির্দেশ ও চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে হিসাবরক্ষকের (অ্যাকাউন্ট্যান্ট) দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিলেন কলেজেরই স্থায়ী কর্মী শশাঙ্ক মুর্মু। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষামহল।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, শশাঙ্কবাবু পেশায় কলেজের লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক (LDC)। পূর্ববর্তী হিসাবরক্ষকের অবসরের পর দীর্ঘদিন হেডক্লার্ক ওই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। এরপর গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে হিসাবরক্ষকের অতিরিক্ত দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় শশাঙ্ক মুর্মুর ওপর। কিন্তু টানা ছয় মাস কাজ করার পর অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তিক্ত বলে দাবি করেন তিনি।
শশাঙ্কবাবুর মূল অভিযোগ, একের পর এক ভুয়ো বিল পাশ করানো এবং তাতে সই করার জন্য তাঁর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘দীনদয়াল উপাধ্যায় গ্রামীণ কৌশল্যা যোজনার মতো মেগা প্রজেক্টের বিলের ক্ষেত্রে এই ধরনের অনিয়মের চাপ সবচেয়ে বেশি আসছিল। অন্যায়ের সঙ্গে আপস না করে গত সোমবার তিনি অধ্যক্ষের কাছে হিসাবরক্ষকের পদ থেকে ইস্তফাপত্র জমা দেন এবং নিজের মূল কাজ অর্থাৎ ক্লার্কের পদে ফিরে যান।
ইস্তফাকারী শশাঙ্ক মুর্মু জানান, ভুয়ো বিলে সই করার জন্য ক্রমাগত চাপ আসছিল। এমন পরিস্থিতিতে কাজ করা অসম্ভব, তাই ইস্তফা দিয়ে নিজের ক্লার্কের কাজে ফিরে গিয়েছি।"
২০২৩ সাল থেকে মহিষাদল রাজ কলেজে শুরু হয় কেন্দ্র সরকারের এই ‘DDU-GKY’ প্রকল্প। এর অধীনে— নার্সিং ও হেলথ কেয়ার,ল্যাব টেকনিসিয়ান, রিটেল বিজনেস, মোটর মেকানিক
প্রভৃতি বিভিন্ন কারিগরি ও পেশাদার কোর্সে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই প্রজেক্টের সমস্ত কর্মী ও প্রশিক্ষকরা প্রকল্পের অধীনেই নিযুক্ত হন। মোটা টাকার এই কেন্দ্রীয় ফান্ড ও বিলে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় বড়সড় দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন অনেকে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন মহিষাদল রাজ কলেজের প্রিন্সিপাল গৌতম মাইতি। তাঁর দাবি, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। শশাঙ্কবাবু কারো প্ররোচনায় প্ররোচিত হয়ে এই জাতীয় অসত্য অভিযোগ করছেন।
অধ্যক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করলেও, একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসাবরক্ষকের লিখিত ইস্তফা এবং ভুয়ো বিলের চাঞ্চল্যকর দাবি ঘিরে বর্তমানে তোলপাড় কলেজ চত্বর।