Fri, Aug 14, 2026
 Network
Breaking News
নানুরে রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সাদা থান,ফুলের মালা সহ হুমকী চিঠি। আতঙ্কে পরিবার! ভবানী ভবনে মুখোমুখি জেরায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায় মদ্যপ যুবকের তাণ্ডব আরামবাগে! বধূকে নিজের স্ত্রী দাবি করে গেটে লাথি বন্যা মোকাবিলায় খানাকুলে সচেতনতামূলক মকড্রিল হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রায় ব্যবসায়ীদের হাতে জাতীয় পতাকা, কোচবিহারে স্বাধীনতা দিবসের আবহ

নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ঘোষণার আগেই বিজেপি প্রার্থীর নামে দেওয়াল লিখন! চরম রাজনৈতিক তর্জা

Editor: The News Express By Editor: The News Express August 05, 2026
নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন ঘোষণার আগেই বিজেপি প্রার্থীর নামে দেওয়াল লিখন! চরম রাজনৈতিক তর্জা
বিধানসভা উপনির্বাচনের বাদ্যি এখনও বাজেনি, নির্বাচন কমিশনও ঘোষণা করেনি দিনক্ষণ। কিন্তু তার আগেই দেওয়াল লিখনে ছেয়ে গেল নন্দীগ্রামের রাজপথ! উপনির্বাচন ঘিরে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের মহাগ্রাম ত্রিবেণী বাজারে দেখা গেল এমনই এক চাঞ্চল্যকর চিত্র। দেওয়ালে লেখা হয়েছে— “নন্দীগ্রাম ২১০ বিধানসভার উপনির্বাচনে বিশিষ্ট সমাজসেবী অঞ্জন ভারতীকে পদ্মফুল চিহ্নে ভোট দিন।”

নির্বাচন ঘোষণার আগেই বিজেপি প্রার্থীর নাম সম্বলিত এই দেওয়াল লিখন সামনে আসতেই স্থানীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা ও রাজনৈতিক তর্জা শুরু হয়েছে।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর— এই দুটি হাইভোল্টেজ কেন্দ্র থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুটি কেন্দ্রেই বিপুল জনমতে জয়লাভ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে নিয়মমাফিক তিনি নন্দীগ্রাম বিধানসভার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ে। তার পর থেকেই নন্দীগ্রামের সম্ভাব্য উপনির্বাচন নিয়ে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করে।

শুভেন্দু অধিকারী পদত্যাগ করার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় উপনির্বাচনের প্রার্থী নিয়ে শুরু হয়েছিল জোর জল্পনা। এলাকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপির টিকিটের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মেঘনাদ পাল, অঞ্জন ভারতী ও প্রলয় পাল।

অনুগামীরা এতদিন নিজ নিজ প্রিয় প্রার্থীর সমর্থনে ফেসবুকে পোস্ট ও প্রচার চালাচ্ছিলেন। কিন্তু এবার ভার্চুয়াল দুনিয়া ছাপিয়ে মহাগ্রাম ত্রিবেণী বাজারে সরাসরি প্রার্থীর নাম দিয়ে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে যাওয়ায় বিতর্ক একেবারে তুঙ্গে উঠেছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে অস্বস্তি তৈরি হলেও বিষয়টিকে ‘আবেগ’ হিসেবেই দেখছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব।

নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি সৌমিত্র দে জানান: “নন্দীগ্রামের মাটি লড়াইয়ের মাটি। বিগত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও নন্দীগ্রামের মাটি চোর পবিত্র করকে বিজেপি নেতা তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হারিয়েছেন। আমাদের দল একটি সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ দল। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কেউ নয়। দল এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। কিছু অতি-উৎসাহী সমর্থক হয়তো আবেগপ্রবণ হয়ে এই কাজ করে ফেলেছে।”

দলীয় নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করলেও, ভোটের তারিখ ও প্রার্থী তালিকা প্রকাশের আগেই এই দেওয়াল লিখন যে পদ্ম শিবিরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও প্রার্থীপদের দৌড়কে প্রকাশ্যে এনে ফেলল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন দিন ঘোষণা করার পর শেষ পর্যন্ত কার হাতে ওঠে নন্দীগ্রামের টিকিট!