Fri, Aug 14, 2026
 Network
Breaking News
নানুরে রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সাদা থান,ফুলের মালা সহ হুমকী চিঠি। আতঙ্কে পরিবার! ভবানী ভবনে মুখোমুখি জেরায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায় মদ্যপ যুবকের তাণ্ডব আরামবাগে! বধূকে নিজের স্ত্রী দাবি করে গেটে লাথি বন্যা মোকাবিলায় খানাকুলে সচেতনতামূলক মকড্রিল হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রায় ব্যবসায়ীদের হাতে জাতীয় পতাকা, কোচবিহারে স্বাধীনতা দিবসের আবহ

ভারী বৃষ্টিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: নয়াগ্রামে মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে প্রৌঢ়ার মৃত্যু, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

Editor: The News Express By Editor: The News Express August 04, 2026
ভারী বৃষ্টিতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: নয়াগ্রামে মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে প্রৌঢ়ার মৃত্যু, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে গৃহহীন হওয়ার আতঙ্কই অবশেষে সত্যি হলো ঝাড়গ্রামের নয়াগ্রাম ব্লকে। শনিবার দুপুর প্রায় একটা নাগাদ মাটির দেওয়াল চাপা পড়ে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হলো আনুমানিক ৬০ বছর বয়সী প্রৌঢ়া স্বর্ণ কালন্দির। ঘটনাটি ঘটেছে বড় নিগুই অঞ্চলের বড়সোল গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকায় তীব্র শোকের পাশাপাশি ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বড়সোল গ্রামের চারিদিকে জল জমে গিয়েছিল। ভিজে চরম বিপদজনক অবস্থায় পৌঁছেছিল স্বর্ণদেবীর মাটির ঘরটি। শনিবার সকালে স্থানীয় এক প্রতিবেশী তাঁকে সতর্ক করে নিজের বাড়িতে থাকার প্রস্তাব দিলেও, আত্মমর্যাদাশীল ও স্বাধীনচেতা ওই প্রৌঢ়া কারো ওপর বোঝা হতে চাননি। সারাজীবন ভিক্ষাবৃত্তি করে কোনোমতে দিন গুজরান করা স্বর্ণদেবী নিজের ভিটেতেই ফিরে যান। দুপুর নাগাদ আচমকা সেই জরাজীর্ণ মাটির দেওয়াল ধসে তাঁর ওপর পড়ে।
ঘটনাস্থলে গ্রামবাসীরা দ্রুত ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পেয়ে নয়াগ্রাম থানার পুলিশ পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
আবাসন যোজনা নিয়ে ক্ষোভ ও গ্রামজুড়ে আতঙ্ক
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দারিদ্র্যের চরম সীমায় থাকা সত্ত্বেও স্বর্ণ কালন্দি কোনো সরকারি আবাসন প্রকল্পের সুবিধা পাননি। সময়মতো একটি নিরাপদ পাকা বাড়ি পেলে হয়তো আজ এই করুণ পরিণতি হতো না।

শুধু স্বর্ণদেবীই নন, এই ঘটনার পর বড়সোল গ্রামের আরও ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে:
গ্রামের বহু মাটির বাড়িতে ইতিমধ্যেই চওড়া ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক ঘরের ভেতর জল ঢুকে দেওয়াল বিপজ্জনকভাবে ভিজে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় কোনো দুর্ঘটনার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাসিন্দারা।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ব্লক প্রশাসনের তরফ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলিকে স্থানীয় ICDS কেন্দ্র ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে খাবারেরও বন্দোবস্ত রয়েছে। তবে গ্রামবাসীদের প্রশ্ন—ত্রাণ শিবিরে দিন কাটানোই কি স্থায়ী সমাধান?
এখনও বহু পরিবার ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে ভাঙন ধরে যাওয়া মাটির ঘরেই রাত কাটাচ্ছে। স্বজনহারা নয়াগ্রামের মানুষের আজ একটাই মূল দাবি—আর যেন কোনো প্রাণ এভাবে সরকারি উদাসীনতায় ঝরে না যায়। অবিলম্বে গ্রামের গৃহহীন ও দরিদ্র মানুষদের জন্য নিরাপদ পাকা বাসস্থানের দাবি জানিয়েছেন বাসিন্দারা।