Fri, Aug 14, 2026
 Network
Breaking News
নানুরে রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সাদা থান,ফুলের মালা সহ হুমকী চিঠি। আতঙ্কে পরিবার! ভবানী ভবনে মুখোমুখি জেরায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায় মদ্যপ যুবকের তাণ্ডব আরামবাগে! বধূকে নিজের স্ত্রী দাবি করে গেটে লাথি বন্যা মোকাবিলায় খানাকুলে সচেতনতামূলক মকড্রিল হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রায় ব্যবসায়ীদের হাতে জাতীয় পতাকা, কোচবিহারে স্বাধীনতা দিবসের আবহ

বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে পদ খোয়ালেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান

Editor: The News Express By Editor: The News Express July 31, 2026
বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে পদ খোয়ালেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান
নিজের একচ্ছত্র দাপট ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে খোদ দলের সদস্যদেতেই কোণঠাসা প্রধান। বাঁকুড়ার তালডাংরা ব্লকের শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতে আস্থা ভোটে পরাজিত হয়ে পদ খোয়ালেন তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের প্রধান মৌসুমি ঠাকুর।

রাজ্যে প্রশাসনিক পালাবদলের পর বাঁকুড়ার স্থানীয় রাজনীতিতে ফের বড়সড় তোলপাড়। তৃণমূল পরিচালিত আরও একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব পাস হওয়ায় পদচ্যুত হতে হলো শাসকদলের প্রধানকে। পঞ্চায়েতের নিজস্ব ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ এবং দলীয় সতীর্থদের তোয়াক্কা না করে একনায়কতন্ত্র চালানোর অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে একজোট হয়েছিলেন দলেরই বিক্ষুব্ধ সদস্যরা। তাঁদের সঙ্গে হাত মেলান বিরোধী সদস্যরাও। তলবি সভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে অনাস্থা পাস হওয়ায় আপাতত ওই পঞ্চায়েতের পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে উপপ্রধান জিতেন লোহারের হাতে।

স্থানীয় ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, তালডাংরা ব্লকের শালতোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন সংখ্যা ১১টি। গত গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিপুল সমর্থন পেয়ে ৯টি আসনে জয়লাভ করেছিল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বাকি দুটি আসনের মধ্যে ১টি সিপিআইএম এবং ১টি বিজেপির দখলে যায়। স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তৃণমূলের পক্ষ থেকে মৌসুমি ঠাকুরকে প্রধান নির্বাচিত করা হয়।

তবে পঞ্চায়েত গঠনের পর থেকেই প্রধানের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। অভিযোগ, পঞ্চায়েতের উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ ও নিজস্ব তহবিলের টাকা আত্মসাৎ করছিলেন প্রধান। পাশাপাশি পঞ্চায়েতের দৈনন্দিন কাজকর্মে অন্যান্য সদস্যদের মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা চালাতেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই ক্ষোভ প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি, যখন অনিয়মের প্রতিবাদে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সদস্য এবং বিরোধী সিপিআইএম ও বিজেপি সদস্য একজোট হন।
প্রধান মৌসুমি ঠাকুরের বিরুদ্ধে একযোগে অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় ব্লক প্রশাসনের কাছে। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নির্ধারিত দিনে আয়োজিত তলবি সভায় ভোটাভুটিতে অনাস্থা প্রস্তাবটি পাস হয়ে যায়। ফলে প্রশাসনিক নিয়ম মেনে প্রধান পদ থেকে অপসারিত হন মৌসুমি ঠাকুর। ঘটনার পর প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটাতে ব্লক প্রশাসনের নির্দেশে আপাতত উপপ্রধান জিতেন লোহারকে পঞ্চায়েত পরিচালনার অস্থায়ী দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনায় এলাকায় দলীয় কোন্দল যেমন প্রকাশ্যে এসেছে, তেমনই পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতি প্রতিরোধে সাধারণ সদস্য ও বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ পঞ্চায়েত রাজনীতিতে নতুন বার্তা দিল।