কাকদ্বীপে ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে আধুনিক RAS ব্যবস্থার উদ্বোধন, গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা•অবৈধ বালী পাচার রুখে দিল বিজেপি, পানাগড় সেনা ছাউনির সামনে ব্যাপক উত্তেজনা•সরকারি মহিলা শৌচাগারের পথ দখলের অভিযোগ, ছাতনা থানায় স্মারকলিপি দিলেন স্থানীয় মহিলারা•ঘাটাল থানার সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিকতা, ফিরিয়ে দিল ৪২ হাজার টাকার লটারী•রাতের অন্ধকারে এগরায় স্কুলে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য।•
কাকদ্বীপে ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে আধুনিক RAS ব্যবস্থার উদ্বোধন, গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা
By Reporter Sabyasachi June 29, 2026
Share:
সন্দীপ দাস, কাকদ্বীপ:
ইলিশ মাছের কৃত্রিম প্রজনন ও সংরক্ষণে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল আইসিএআর-কেন্দ্রীয় লবণাক্ত জলজ চাষ গবেষণা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ (সিবা)। সোমবার কাকদ্বীপে অবস্থিত সিবার গবেষণা কেন্দ্রে আয়োজিত এক বিশেষ কৃষক সভায় ইলিশের কৃত্রিম প্রজননের জন্য অত্যাধুনিক স্যালিনিটি গ্রেডিয়েন্ট রিসার্কুলেটরি অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম (RAS)-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এই আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশের স্বাভাবিক জীবনচক্রের অনুকূল পরিবেশ গবেষণাগারে তৈরি করে কৃত্রিম প্রজননের সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে সিবা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের সুন্দরবন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। তিনি গবেষকদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ইলিশ শুধু বাংলার আবেগ নয়, রাজ্যের মৎস্য অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে ইলিশ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে মৎস্যচাষের ক্ষেত্রে নতুন দিশা দেখাবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সিবার অধিকর্তা ড. কুলদীপ কে. লাল। তিনি বলেন, গবেষণাগারে ইলিশের প্রজনন প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে এই নতুন RAS ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর ফলে গবেষণা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং ভবিষ্যতে ইলিশ চাষের সম্ভাবনাও বাস্তব রূপ পেতে পারে।
সিবার প্রধান বিজ্ঞানী ড. দেবাশীষ দে জানান, এই স্যালিনিটি গ্রেডিয়েন্ট RAS এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে ইলিশের স্বাভাবিক নদী থেকে সমুদ্র এবং সমুদ্র থেকে নদীতে চলাচলের সময় যে পরিবেশগত পরিবর্তন ঘটে, তা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা সম্ভব হয়। এই প্রযুক্তি ইলিশের কৃত্রিম প্রজনন, সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক চাষের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে বলে তিনি আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে বায়োফার্টিলাইজার, উন্নতমানের ফিশ ফিড এবং ‘হিলশা মিশন’ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি ইলিশ গবেষণা, উপকূলীয় মৎস্যচাষের উন্নয়ন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মৎস্যজীবীদের আয় বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিজ্ঞানী, গবেষক, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভার শেষে গবেষকরা জানান, ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে সাফল্য মিললে তা শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, গোটা দেশের মৎস্য গবেষণার ক্ষেত্রেই এক যুগান্তকারী সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে ইলিশের প্রাকৃতিক মজুত সংরক্ষণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে চাষের মাধ্যমে বাজারে ইলিশের সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।