কাকদ্বীপে ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে আধুনিক RAS ব্যবস্থার উদ্বোধন, গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা•অবৈধ বালী পাচার রুখে দিল বিজেপি, পানাগড় সেনা ছাউনির সামনে ব্যাপক উত্তেজনা•সরকারি মহিলা শৌচাগারের পথ দখলের অভিযোগ, ছাতনা থানায় স্মারকলিপি দিলেন স্থানীয় মহিলারা•ঘাটাল থানার সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিকতা, ফিরিয়ে দিল ৪২ হাজার টাকার লটারী•রাতের অন্ধকারে এগরায় স্কুলে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য।•
আট বছর পর কাকদ্বীপের সিপিএম দম্পতি খুনের মামলায় গ্রেফতার ১০, ধৃতদের মধ্যে তৃণমূল নেতাও
By Reporter Sabyasachi June 25, 2026
Share:
সন্দীপ দাস, কাকদ্বীপ:
২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটের আগের রাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বুধাখালি গ্রামে সিপিএম সমর্থক দম্পতি দেবব্রত দাস ও উষারানি দাসের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ আট বছর পর বড় মোড় এলো। মূল এফআইআরে নাম থাকা ১০ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যাদের মধ্যে তৎকালীন এক তৃণমূল নেতাও রয়েছেন। ধৃতদের নাম অশোক মণ্ডল, চন্দন গিরি, মেঘনাথ ডাকুয়া, মাধব কান্ডার, নিকুঞ্জ নস্কর, শিবপ্রসাদ মণ্ডল, অমিত মণ্ডল, গোকুল জানা, নারায়ণচন্দ্র পতি এবং শেখ মণিরুল। বুধবার ধৃতদের কাকদ্বীপ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন ধৃতদের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।
২০১৮ সালের ১৩ মে রাতে মুড়িগঙ্গা নদীর ধারের বাড়িতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় পেশায় মৎস্যজীবী দেবব্রত ও তাঁর স্ত্রীর। প্রথম দিকে ঘটনাটিকে শর্ট সার্কিটের জেরে 'দুর্ঘটনা' বলে চালানোর চেষ্টা করা হলেও, স্থানীয় সূত্রের দাবি ছিল—ঘটনার রাতে ঝড়বৃষ্টির কারণে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগই ছিল না। মৃত দম্পতির ছেলে দীপঙ্করের অভিযোগ ছিল, তৃণমূলে যোগ দেওয়ার চাপ অস্বীকার করায় তাঁর বাবা-মাকে পুড়িয়ে খুন করা হয়েছে।
তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে দীপঙ্কর কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলে আদালতের নির্দেশে মামলার দায়িত্ব যায় বিশেষ তদন্তকারী দলের (সিট) হাতে। আইপিএস মুরলীধর শর্মার নেতৃত্বে থ্রি-ডি ম্যাপিং ও ফরেন্সিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখে নতুন সূত্র মেলার পরই এই গ্রেফতারি চালানো হয়।
মঙ্গলবারই বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং পরে ভবানী ভবনে ডিজিপির সঙ্গে দেখা করেন সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও নিহত দম্পতির ছেলে দীপঙ্কর। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ বুধাখালি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১০ জনকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের মধ্যে অমিত মণ্ডল অন্যতম, যিনি ওই ঘটনার পর ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওই বুথ থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য শুরু থেকেই এই খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।