সন্দীপ দাস বকখালি:
দীর্ঘ ২৩ দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে পর্যটন কেন্দ্র বকখালির হেনরিজ আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গল থেকে উদ্ধার হলো নিখোঁজ গৃহবধূর পচাগলা মৃতদেহ। খুনের পর প্রমাণ লোপাট করতে গভীর জঙ্গলে বালি চাপা দিয়ে দেহটি পুঁতে রাখার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত । শুক্রবার দুপুরে জয়নগরের বকুলতলা থানা এবং স্থানীয় ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে বছর ৩৪-এর রাবিয়া ফকির নামের ওই গৃহবধূর দেহটি উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত প্রেমিক জহিরুল সরদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বকুলতলা থানা এলাকার বাসিন্দা বিবাহিত রাবিয়া ফকিরের সাথে এলাকারই যুবক জহিরুল সরদারের বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে তাঁদের এই পরকীয়া সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং দুজনের মধ্যে তীব্র অশান্তি শুরু হয়। এরপরই গত ২৬শে মে হঠাৎ করে নিখোঁজ হয়ে যান রাবিয়া। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাবিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বকুলতলা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
ঘটনার তদন্তে নেমে ১৮ই জুন বৃহস্পতিবার পুলিশ অভিযুক্ত জহিরুল সরদারকে গ্রেফতার করে। পুলিশের ম্যারাথন জেরার মুখে ভেঙে পড়ে পেশায় ড্রাইভার জহিরুল স্বীকার করে যে, গত ২৬শে মে সে রাবিয়াকে ফুঁসলিয়ে বকখালিতে বেড়াতে নিয়ে আসে। সেখানেই সুযোগ বুঝে হেনরিজ আইল্যান্ডের গভীর জঙ্গলে রাবিয়াকে গলা টিপে খুন করে বালি চাপা দিয়ে চলে যায় সে।
শুক্রবার দুপুরে ধৃত জহিরুলকে সাথে নিয়ে বকখালির হেনরিজ আইল্যান্ডের জঙ্গলে পৌঁছায় বকুলতলা ও ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশ। সেখানে জহিরুলের দেখিয়ে দেওয়া নির্দিষ্ট জায়গা খুঁড়তেই বালির ভেতর থেকে বেরিয়ে আসে রাবিয়ার শরীরের অংশ। তার কিছুটা দূরে বালির উপর পড়েছিল রাবিয়া ফকিরের পচাগলা দেহ। পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কাকদ্বীপ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পাশাপাশি এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা তা অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।