পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান বীরসিংহ গ্রামের মাটিতে বাংলা তারিখ অনুযায়ী ১২ই আশ্বিন তাঁর জন্মদিবস উদযাপিত হয়। এই বিশেষ দিনটিকে সামনে রেখেই সমাজের এক ব্যতিক্রমী ও ইতিবাচক ছবি সামনে এল। প্রশাসনিক কাজের গতানুগতিক গণ্ডি পেরিয়ে সমাজের গভীরে বার্তা পৌঁছে দিতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দাসপুর-২ ব্লকের বিডিও (BDO) প্রবীরকুমার শীট।
বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়তে তিনি খোদ বিদ্যাসাগরের বেশ ধারণ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, বাল্যবিবাহ রোধে ধারাবাহিক ও সফল কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ গত বছর জেলার প্রথম পুরস্কার পেয়েছিল দাসপুর-২ ব্লক। সেই অর্জিত সাফল্যের মর্যাদাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং সচেতনতার বার্তা প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পুরস্কার গ্রহণের অনুষ্ঠানে বিদ্যাসাগরের অবয়বে হাজির হন বিডিও প্রবীরকুমার শীট। তাঁর এই রূপদান কেবল দৃষ্টি আকর্ষণই করেনি, বরং এর পেছনের গভীর সামাজিক বার্তাও সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শুধু পোশাকে পরিবর্তন এনেই ক্ষান্ত থাকেননি বিডিও এবং তাঁর প্রশাসনিক দল। সমাজ থেকে বাল্যবিবাহের মতো অভিশাপ দূর করতে তাঁরা গ্রহণ করেছেন নানা সৃজনশীল কর্মসূচী। ব্লকের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়মিত পথনাটিকা ও পোস্টার-ফেস্টুনের মাধ্যমে করছেন সচেতনতা প্রচার।
কন্যারত্ন প্রকল্পের ছাত্রীদের সঙ্গে নিয়ে সাইকেল চালিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সচেতনতার বার্তা ছড়ানোর কাজ চালিয়েছেন। যা প্রশাসনের চার দেওয়ালের বাইরে বেরিয়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রশাসনের দাবি, এই লাগাতার ও বহুমুখী প্রচারের ফলে দাসপুর-২ ব্লকে বাল্যবিবাহের প্রবণতা ও হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাজ যে কেবল ফাইল ও সরকারি নির্দেশ পালনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন প্রবীরকুমার শীট। পোশাক বদলে বিদ্যাসাগরের রূপ ধারণ করার এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য একটাই—বাল্যবিবাহ চিরতরে বন্ধ হোক এবং এলাকার মেয়েদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত ও উজ্জ্বল হয়ে উঠুক। নীরবে ঘটে চলা এই ধরনের ছোট অথচ দূরদর্শী উদ্যোগই যে সমাজ পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে, দাসপুর-২ ব্লকের এই ঘটনা তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।