রাহুল প্রধানমন্ত্রী হলে আপত্তি নেই, ‘ইগো’ ভুলে INDIA জোটে বার্তা মমতার•নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: মোতায়েন ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ৭০০ পুলিশ কর্মী•আজ থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু ‘সেবা সেতু অভিযান’, ব্লকে ব্লকে তৎপর প্রশাসন।•উৎসবের শুরুতেই ধাক্কা: কলকাতায় এক লাফে ৭০ টাকা বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম, মধ্যবিত্তের স্বস্তি রান্নার গ্যাসে•পিংলায় আবগারি দফতরের যৌথ অভিযান, নষ্ট ৩০০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ•
আবহাওয়ার মার ও দাম না থাকায় দুশ্চিন্তায় পাণ্ডুয়ার কোটি টাকার পদ্ম চাষিরা
By By The News Express September 21, 2026
Share:
পাণ্ডুয়া (হুগলি): দুর্গাপূজা ও অন্যান্য উৎসবকে সামনে রেখে জমজমাট থাকার কথা থাকলেও, এ বছর হুগলির পাণ্ডুয়া ও খন্যান অঞ্চলের পদ্ম চাষিদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। পাণ্ডুয়া, পোলবা ও বলাগড় মিলিয়ে প্রায় আড়াই হাজার বিঘা জমিতে পদ্ম চাষ হয় এই অঞ্চলে। এখানকার পদ্ম শুধু রাজ্যেই নয়, পাড়ি দেয় হায়দ্রাবাদ, চেন্নাই, মুম্বাই, দিল্লি হয়ে সুদূর লন্ডন পর্যন্ত। কলকাতার বিখ্যাত মল্লিক ঘাট ফুলের বাজার থেকে এই পদ্ম ছড়িয়ে পড়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে। পুজোর আগে এই অঞ্চলে কোটি টাকার বেশি ব্যবসা হওয়ার কথা থাকলেও, এবছর প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দাম না পাওয়ার কারণে বড়সড় লোকসানের মুখে পড়েছেন চাষিরা।
প্রধান সমস্যাগুলি এক নজরে:
* ফলনে ঘাটতি: আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে এ বছর পদ্মের ফলন আশানুরূপ হয়নি।
* মূল্যসংকট: বাজারে এখন পদ্মের দাম মাত্র ১.৫ থেকে ২ টাকা, যা চাষের খরচের তুলনায় খুবই কম।
* হিমঘরের অভাব: ফুল সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় স্তরে পর্যাপ্ত হিমঘর না থাকায় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
* পরিবহন ও অন্যান্য বাধা: ফুল বোঝাই গাড়ি যাতায়াতে পুলিশের হেনস্থা এবং প্রশাসনিক সহযোগিতার অভাবের অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা।
চাষী ও ব্যবসায়ীদের প্রতিক্রিয়া:
১২ বিঘা জমির চাষী রাজেশ্বর বিশ্বাস জানান, "আবহাওয়ার কারণে যেভাবে ফলন হওয়ার কথা, তা হচ্ছে না। এ বছর খরচার টাকাই উঠবে কিনা সন্দেহ। কৃষি দফতর ও সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, চাষিদের দিকে নজর দিন এবং ফুলের গাড়িগুলো সহজে যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিন।"
৬ বিঘা জমির চাষী গুরুপদ মাঝি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের এখান থেকে ফুল লন্ডন, হায়দ্রাবাদ, মুম্বাইয়ে যায়। কিন্তু ফুলের সমতুল্য দাম না পাওয়ায় চাষিরা লোকসানের মুখে পড়ছে।"
ব্যবসায়ী মন্টু দেবনাথ ও অরুন বিশ্বাস জানান, গনেশ চতুর্থীতেও বাজার ভালো যায়নি। বর্তমানে দেড় থেকে দু’টাকায় ফুল বিক্রি করতে হচ্ছে। ধানের চেয়েও পদ্ম চাষে বহু শ্রমিক কাজ করে পেট চালান। সরকারের কাছে তাঁদের দাবি, পদ্মের একটি ন্যূনতম দাম বেঁধে দেওয়া হোক এবং আর্থিক সাহায্যের চেয়ে প্রশাসনিক সহযোগিতা বাড়ানো হোক।
প্রশাসনের বক্তব্য:
পরিস্থিতি নিয়ে পাণ্ডুয়ার বিধায়ক তুষার মজুমদার জানান, আগের তুলনায় এলাকায় পদ্ম চাষ অনেকটাই বেড়েছে এবং পুকুরের পাশাপাশি এখন জমিতেও চাষ হচ্ছে। ট্রান্সপোর্টের মাধ্যমে তা বিভিন্ন রাজ্যে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, "পদ্মফুল সংরক্ষণের জন্য হিমঘর তৈরির বিষয়ে আমরা চেষ্টা করব। আলুতে এবছর ভরাডুবি হয়েছে, সেটাও মুখ্যমন্ত্রী বিবেচনা করেছেন। সামনের বছর যাতে চাষিরা লাভের মুখ দেখেন, সেদিকেও আমাদের নজর রয়েছে।"