বাঁকুড়া: কাঁসা, তাঁত আর বাঁশ শিল্পের পর এবার 'জ্যাম্বো জিলিপি'র অনন্য প্যাঁচে নতুন পরিচয় গড়ে তুলেছে বাঁকুড়া-১ ব্লকের ঐতিহ্যবাহী শিল্প গ্রাম কেঞ্জাকুড়া। ভাদ্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে এই গ্রামের মোড়ে মোড়ে এখন চলছে বিশালাকার জিলিপি তৈরির ব্যস্ততা। এক-একটি জিলিপির ওজন ৫০০ গ্রাম থেকে শুরু করে আড়াই কেজি পর্যন্ত! দূর-দূরান্ত থেকে খাদ্যরসিক ক্রেতারা ছুটে আসছেন বিশেষ কৌশলে তৈরি এই মিষ্টির টানে।
প্যাঁচের নকশায় কারিগরদের হাতের জাদু ফুটে ওঠে প্রতিটি জিলিপিতে। ফুড সেফটি বা খাদ্য সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখে কারিগররা এতে ব্যবহার করছেন সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যোপযোগী রং (ফুড গ্রেড কালার), যাতে স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি না হয়।
কারিগর ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, প্রায় অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে কেঞ্জাকুড়ায় এই বিশালাকার জিলিপি তৈরির ঐতিহ্য চলে আসছে। শুরুতে ভাদু পুজোর প্রসাদ হিসেবে এটি তৈরি হলেও, বর্তমানে তা এলাকার এক সামাজিক ট্রেডিশনে পরিণত হয়েছে। বছরের কেবল এই বিশেষ কয়েকটা দিনই তৈরি হয় এই জ্যাম্বো জিলিপি। পরবে-উৎসবে আত্মীয়স্বজন কিংবা বন্ধুবান্ধবদের বাড়িতে এই বিশাল জিলিপি পাঠানো কেঞ্জাকুড়া গ্রামের এক নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই সূত্রে এই জিলিপির খ্যাতি এখন জেলা ছাড়িয়ে রাজ্য এবং রাজ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে।
বাজারের সাম্প্রতিক দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব পড়লেও ঐতিহ্যে ভাটা পড়েনি। গত বছর যেখানে প্রতি কেজি জিলিপির দাম ছিল ১৭০ টাকা, সেখানে দাঁড়িয়ে এবার কেজি প্রতি দাম হয়েছে ১৯০ টাকা। সামান্য দাম বাড়লেও ঐতিহ্যবাহী এই জ্যাম্বো জিলিপি কিনতে মিষ্টির দোকানগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মতো।