Fri, Aug 14, 2026
 Network
Breaking News
নানুরে রাতের অন্ধকারে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে সাদা থান,ফুলের মালা সহ হুমকী চিঠি। আতঙ্কে পরিবার! ভবানী ভবনে মুখোমুখি জেরায় প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পিএ সুমিত রায় মদ্যপ যুবকের তাণ্ডব আরামবাগে! বধূকে নিজের স্ত্রী দাবি করে গেটে লাথি বন্যা মোকাবিলায় খানাকুলে সচেতনতামূলক মকড্রিল হর ঘর তিরঙ্গা যাত্রায় ব্যবসায়ীদের হাতে জাতীয় পতাকা, কোচবিহারে স্বাধীনতা দিবসের আবহ

তার নাম শুনেই হাড় কাঁপে দুষ্কৃতীদের, জানুন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুসলিম মহিলা IPS.পাপিয়া সুলতানার সাফল্যের কাহিনী

Editor: The News Express By Editor: The News Express August 12, 2026
তার নাম শুনেই হাড় কাঁপে দুষ্কৃতীদের, জানুন পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুসলিম মহিলা IPS.পাপিয়া সুলতানার সাফল্যের কাহিনী
একটি ছোট্ট গ্রামের সাধারণ মেয়ে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সীমিত সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম আর নিজের স্বপ্নের প্রতি অটল বিশ্বাস তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের অন্যতম সম্মানজনক পদে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের গর্ব, আইপিএস অফিসার পাপিয়া সুলতানা।

হাওড়া জেলার বাউরিয়া এলাকার এক সাধারণ পরিবারে জ'ন্ম তাঁর। বাবা ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার এবং মা একটি মাদ্রাসা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। গ্রামের পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা পাপিয়ার কাছে আইপিএস হওয়ার স্বপ্নটা সহজ ছিল না। তবুও তিনি বিশ্বাস করেছিলেন পরিশ্রমের কাছে কোনও বাধাই বড় নয়।

নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। দিনের পর দিন দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করেছেন, কখনও কখনও প্রায় ২৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বইয়ের সঙ্গেই কাটিয়েছেন। বই ছিল তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধু। আজও ব্যস্ত দায়িত্বের মাঝেও তিনি নিয়মিত বই পড়েন এবং নিজেকে আরও দক্ষ করে তুলতে নতুন নতুন কোর্সে অংশ নেন।

২০০৮ সালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ সার্ভিসে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। নিষ্ঠা, সততা এবং দক্ষতার জন্য ২০১৫ সালে তিনি আইপিএস পদে উন্নীত হন। বর্তমানে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। আইন-শৃঙ্খলা র'ক্ষায় তাঁর দৃঢ় অবস্থান অ'প'রা'ধী'দে'র কাছে তাঁকে ভ'য়ের প্রতীক করে তুলেছে।

তবে শুধু একজন কঠোর পুলিশ অফিসার হিসেবেই নয়, একজন অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ হিসেবেও পাপিয়া সুলতানা সমান জনপ্রিয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য হাজার হাজার ছাত্রছাত্রীকে স্বপ্ন দেখতে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করে। তিনি বারবার বলেন, সাফল্যের কোনও শর্টকাট নেই, অধ্যবসায়ই মানুষকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়।

একজন গ্রামের মেয়ে থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের প্রথম মহিলা আইপিএস অফিসার হয়ে ওঠার এই যাত্রা প্রমাণ করে, স্বপ্ন যদি বড় হয় এবং পরিশ্রম যদি সত্যিকারের হয়, তাহলে কোনও বাধাই মানুষকে থামাতে পারে না।

পাপিয়া সুলতানার জীবন আমাদের শেখায় পরিস্থিতি নয়, নিজের ইচ্ছাশক্তিই মানুষের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। তাই হার নয়, ল'ড়াই করুন। কারণ আজকের সংগ্রামই আগামী দিনের সাফল্যের ভিত্তি।