বাঁকুড়া থেকে সুখবর। শিল্পাচার্য যামিনী রায়ের জন্মভূমি বেলিয়াতোড়ের মুকুটে নতুন পালক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। বেলিয়াতোড়ের বিখ্যাত ম্যাচা সন্দেশ পেল জিআই অর্থাৎ জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন স্বীকৃতি। এই ঘোষণায় একদিকে যেমন খুশির জোয়ার বেলিয়াতোড়বাসীর মনে, অন্যদিকে এই ম্যাচা সন্দেশের নাম এবার ছড়িয়ে পড়বে গোটা ভারতবর্ষে। দীর্ঘদিনের আশা আজ যেন পূর্ণ হল। বেলিয়াতোড়ের কারিগরদের মুখে এখন শুধুই তৃপ্তির হাসি।
বেলিয়াতোড়ের ম্যাচা সন্দেশ শুধু মিষ্টি নয়, এটা একটা আবেগ। প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো এই সন্দেশ তৈরির ইতিহাস। খাঁটি গাওয়া ঘি, ছানা আর চিনি দিয়ে তৈরি হয় এই সন্দেশ। কিন্তু আসল কারিগরি লুকিয়ে আছে ‘ম্যাচা’ পাক দেওয়ার পদ্ধতিতে। ছানাকে কড়াইতে নির্দিষ্ট তাপে বারবার নাড়তে নাড়তে যখন দানাদার একটা ভাব আসে, তখনই তৈরি হয় আসল ম্যাচা।
এই সন্দেশের বৈশিষ্ট্য হল, এটা মুখে দিলেই গলে যায় না। হালকা দানাদার, অথচ নরম। উপরে চিনির হালকা আস্তরণ। আর স্বাদে অতুলনীয়। বেলিয়াতোড়ের জল-হাওয়া আর কারিগরদের বংশ পরম্পরায় শেখা কৌশল — এই দুইয়ের মিশেলেই তৈরি হয় খাঁটি ম্যাচা সন্দেশ। অন্য কোথাও এই স্বাদ পাওয়া যায় না।
জিআই তকমা পাওয়ার জন্য বেলিয়াতোড়ের মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী সমিতি বহুদিন ধরে লড়াই চালাচ্ছিল। কাগজপত্র জমা, ইতিহাস তুলে ধরা, কারিগরদের বয়ান রেকর্ড করা — অনেক ধাপ পেরিয়ে অবশেষে এল সেই স্বীকৃতি। বেলিয়াতোড়ের মিষ্টির দোকানগুলোতে উৎসবের চেহারা।