রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল: পিংলায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে পঞ্চায়েত অফিস ‘শুদ্ধিকরণ’ বিজেপি নেতৃত্বের•প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা কর্মসূচি সকাল থেকে নবান্ন সভাঘরে সাজো সাজো রব•সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর•চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কী ভাবে দেওয়া হবে, স্পষ্ট করলেন তা-ও•কোন মন্ত্রিত্ব পেলেন দিলীপ ঘোষ? অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদেরও হয়ে গেল দফতর বণ্টন•
রাজ্যে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সরকার পরিবর্তনের এই আবহে সোমবার এক অভিনব কর্মসূচির সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা। এলাকার ৫ নম্বর মালিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করার পাশাপাশি গঙ্গাজল ছিটিয়ে ‘শুদ্ধিকরণ’ করলেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা।
এদিন সকালে পঞ্চায়েত অফিস খোলার পরেই সেখানে হাজির হন মালিগ্রাম অঞ্চলের বিজেপি নেতৃত্ব। হাতে ঝাড়ু নিয়ে তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর 'স্বচ্ছ ভারত অভিযান'কে সামনে রেখে গোটা অফিস চত্বর পরিষ্কার করেন। এরপর প্রয়াগের মহাকুম্ভ থেকে নিয়ে আসা পবিত্র গঙ্গাজল ছিটিয়ে গোটা পঞ্চায়েত ভবন ও চত্বর ধুয়ে দেওয়া হয়।
বিজেপি নেতাদের দাবি, গত দেড় দশকে এই পঞ্চায়েত অফিসগুলি দুর্নীতি এবং অপশাসনের আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। গত ১৫ বছরের "কালিমা" মুছে ফেলতেই এই গঙ্গাজল ছিটিয়ে শুদ্ধিকরণ।
বিজেপি নেতৃত্বের স্পষ্ট দাবী, তাঁরা দখলদারির রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। আগের নির্বাচিত বোর্ডই পঞ্চায়েত চালাবে এবং সাধারণ মানুষ যাতে স্বাভাবিক পরিষেবা পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। আগামী দিনে কোনো রকম দুর্নীতি বা অপশাসনকে যে বরদাস্ত করা হবে না, সেই বার্তাই এদিন দেয় বিজেপি নেতৃত্বরা। তারা বলেন, আমরা চাই পঞ্চায়েত মানুষের জন্য কাজ করুক। গত ১৫ বছর এখানে শুধু দুর্নীতি হয়েছে। তাই পবিত্র গঙ্গা জল দিয়ে আমরা এই অফিসকে কলঙ্কমুক্ত করলাম। এবার থেকে মানুষ স্বচ্ছ পরিষেবা পাবেন।"
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে রদবদল লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পিংলার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের এই 'শুদ্ধিকরণ' কর্মসূচি আসলে তৃণমূল জমানার অবসানের একটি প্রতীকী প্রতিবাদ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বর্তমানে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকলেও, এই কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে জোর চর্চা।