রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল: পিংলায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে পঞ্চায়েত অফিস ‘শুদ্ধিকরণ’ বিজেপি নেতৃত্বের•প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা কর্মসূচি সকাল থেকে নবান্ন সভাঘরে সাজো সাজো রব•সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর•চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কী ভাবে দেওয়া হবে, স্পষ্ট করলেন তা-ও•কোন মন্ত্রিত্ব পেলেন দিলীপ ঘোষ? অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদেরও হয়ে গেল দফতর বণ্টন•
৫ বছর পর ঘরে ফিরলেন পিংলার পশ্চিমচকের 'ঘরছাড়া' বিজেপি কর্মীরা, গ্রামে উৎসবের মেজাজ
By Reporter Sabyasachi May 07, 2026
Share:
নিজস্ব সংবাদদাতা, পিংলা:
দীর্ঘ ৫ বছরের প্রতীক্ষার অবসান। অবশেষে আইনি লড়াই জিতে নিজের গ্রামে, নিজের ভিটেয় ফিরলেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের পশ্চিমচক গ্রামের ১২ জন বিজেপি কর্মী। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকে চলা দীর্ঘ টানাপোড়েন কাটিয়ে ঘরে ফেরা এই কর্মীদের বরণ করে নিতে আজ গ্রামজুড়ে ছিল অকাল উৎসবের মেজাজ।
বিজেপির অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন রাজনৈতিক হিংসার বলি হন এক ব্যক্তি। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনীতি শুরু করে। একের পর এক বিজেপি কর্মীর নামে 'মিথ্যা' মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ অনেককে গ্রেপ্তারও করে। ঘরছাড়ার তালিকায় ছিলেন অনেকেই। দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং জেল হেফাজত কাটিয়ে অবশেষে জামিন পান ১২ জন বিজেপি কর্মী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘাটাল সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি তন্ময় দাসের নেতৃত্বে ঘরছাড়া কর্মীদের নিয়ে হান্দোল বাজারে পৌঁছায়। সেখান থেকে শোভাযাত্রা করে তাঁদের গ্রামে ঢোকানো হয়। গ্রামের মানুষ শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখরিত করে তোলেন। কর্মীদের গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় ফুলের মালা। প্রায় ৫ বছর পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে অনেকের চোখেই ছিল আনন্দের জল।
বিজেপির জেলা সভাপতি তন্ময় দাস বলেন "তৃণমূল এই পশ্চিমচকে অনেক অত্যাচার করেছে। মিথ্যা কেস দিয়ে আমাদের কর্মীদের জেলে আটকে রাখতে চেয়েছিল। কিন্তু আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমেই আজ তাঁদের সসম্মানে ঘরে ফেরানো হলো।"
জেলা সভাপতি তন্ময় দাস এদিন প্রতিটি কর্মীর বাড়ি গিয়ে তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বিজেপি সরকার এই সমস্ত অত্যাচারিত কর্মীদের স্বার্থে সবসময় কাজ করবে। সেই সঙ্গে এলাকায় যাতে কোনও নতুন করে অশান্তি না ছড়ায়, সে জন্য দলীয় কর্মীদের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কড়া বার্তাও দেন তিনি।
দীর্ঘ কয়েক বছর পর 'ঘরের ছেলেরা' ঘরে ফেরায় পশ্চিমচক গ্রামে এখন কেবলই স্বস্তির হাওয়া। রাজনৈতিক উত্তাপ সরিয়ে আপাতত উৎসবে মেতেছে গোটা গ্রাম।