বাঁকুড়ায় রাজ্য পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করলেন মাওবাদীদের তিন শীর্ষ নেতা-নেত্রী। বাঁকুড়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স হলে এডিজি (পশ্চিমাঞ্চল)-এর নিকট তাঁরা অস্ত্রশস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণকারী শীর্ষ মাও নেতা-নেত্রীদের পরিচয় পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,
আত্মসমর্পণকারী এই তিন নেতার সাংগঠনিক পদমর্যাদা যথেষ্ট উঁচুতে ছিল:
* জবা মাহাতো (ওরফে বুলু): মাওবাদী সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্য।
* নয়নতারা সাহু (ওরফে মিতা): মাওবাদী সংগঠনের জোনাল কমিটির সদস্য।
* রামপ্রসাদ মান্ডি (ওরফে শচীন): বাংলা, ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা রিজিওনাল কমিটির সদস্য।
বাঁকুড়া জেলা পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তিন নেতা-নেত্রী কেবল এ রাজ্যের জঙ্গলমহলের বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেই সক্রিয় ছিলেন না, বরং পার্শ্ববর্তী ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পূর্ব সিংভূম জেলার কোলহান অঞ্চলেও তাঁদের উল্লেখযোগ্য যাতায়াত ও সক্রিয়তা ছিল।
আত্মসমর্পণের সময় তাঁরা নিজেদের হেফাজতে থাকা আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুলিশের হাতে তুলে দেন:
২ টি ইনসাস (INSAS) বন্দুক, ১ টি একে-৪৭ (AK-47) বন্দুক, ১০ টি ম্যাগাজিন, ১৫৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের এই ৩ শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে ৭৫টিরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ইউএপিএ (UAPA) আইন ছাড়াও অস্ত্র আইন এবং বিস্ফোরক আইনে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
মাওবাদীদের এই ত্রয়ীর আত্মসমর্পণকে জঙ্গলমহলের নিরাপত্তায় এবং মাওবাদী দমনে একটি অত্যন্ত বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন।