রাহুল প্রধানমন্ত্রী হলে আপত্তি নেই, ‘ইগো’ ভুলে INDIA জোটে বার্তা মমতার•নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা: মোতায়েন ৩৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ৭০০ পুলিশ কর্মী•আজ থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু ‘সেবা সেতু অভিযান’, ব্লকে ব্লকে তৎপর প্রশাসন।•উৎসবের শুরুতেই ধাক্কা: কলকাতায় এক লাফে ৭০ টাকা বাড়ল বাণিজ্যিক গ্যাসের দাম, মধ্যবিত্তের স্বস্তি রান্নার গ্যাসে•পিংলায় আবগারি দফতরের যৌথ অভিযান, নষ্ট ৩০০ লিটার চোলাই মদ তৈরির উপকরণ•
বাইক না দিয়েই ১০২ জন গ্রাহকের নামে লোন! আদ্রার হোন্ডা শোরুমে কোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেফতার মালিক ও ব্যাংককর্মী বাইক
By By The News Express September 26, 2026
Share:
বাইক কেনার স্বপ্ন অধরা রেখেই কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণার শিকার হলেন পুরুলিয়ার আদ্রার ১০২ জন গ্রাহক। বাইক দেওয়ার নাম করে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করে, তাঁদের অজান্তেই ব্যাংক থেকে ঋণ (Loan) অনুমোদন করিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠল আদ্রার একটি হোন্ডা শোরুমের মালিকের বিরুদ্ধে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় শোরুমের মালিক এবং এক ব্যাংককর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে প্রতারণার পরিমাণ ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকারও বেশি বলে অনুমান করা হচ্ছে।
আদ্রা এলাকার ওই হোন্ডা শোরুমের মালিক অভিষেক ব্যানার্জি বাইক লোন করে দেওয়ার কথা বলে শোরুমে আসা সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিগত নথি নিতেন। গ্রাহকদের কোনো রকম সম্মতি বা অবগতির ছাড়াই ওই নথি ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে তাঁদের নামে বাইক ঋণ অনুমোদন করিয়ে নেওয়া হতো। লোন অনুমোদনের সময় শোরুমে আগে থেকেই মজুত থাকা অন্য বাইকের চেসিস (Chassis) নম্বর ব্যবহার করা হতো। এর ফলে কাগজে-কলমে লোন হয়ে গেলেও বাস্তবে গ্রাহকের হাতে কোনো বাইক পৌঁছত না।
গ্রাহকরা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারতেন যখন তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে নিয়মিত মাসিক কিস্তি বা EMI কাটা শুরু হতো।
ব্যাংককর্মীর যোগসাজশ ও পুলিশের পদক্ষেপ
এই গোটা প্রক্রিয়ায় এককভাবে নয়, বরং একটি ব্যাংকের এক কর্মীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় এই জালিয়াতি চালাতেন শোরুম মালিক। একাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশেষ দলও গঠন করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংককর্মীকে এবং পরবর্তীতে মূল অভিযুক্ত শোরুম মালিক অভিষেক ব্যানার্জিকে গ্রেফতার করে। পুরুলিয়া জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানী রাজ জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে নতুন ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর আর্থিক প্রতারণা সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আদ্রার ওই হোন্ডা শোরুমটি ইতিমধ্যেই সিল করে দিয়েছে পুলিশ। প্রতারিত গ্রাহকদের অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযুক্ত শোরুমের সম্পত্তি নিলাম করা হবে এবং সেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই প্রতারিত গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একটি বাহন কেনার আনন্দ নিয়ে শোরুমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বাইক না পেয়েও মাসের পর মাস ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানোয় গোটা আদ্রা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না এবং ঋণের টাকা ঠিক কোথায় পাচার করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।