নির্বাচন কমিশন তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও প্রতীক সাময়িকভাবে ফ্রিজ করার সিদ্ধান্তের পর দুর্গাপুরে এক অভিনব ও বিতর্কিত রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করল বিজেপি। "দলও নেই, প্রতীকও নেই"— এই যুক্তি সামনে রেখে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় পুরোহিত ডেকে রীতিমতো পারলৌকিক আচার-রীতি মেনে তৃণমূলের 'শ্রাদ্ধানুষ্ঠান' সম্পন্ন করেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
শনিবার বিজেপির পূর্ব বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডলের নেতৃত্বে দুর্গাপুরের প্রাণকেন্দ্র সিটি সেন্টারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে তৃণমূলের দলীয় প্রতীক সামনে রেখে পুরোহিত ডেকে সমস্ত ধর্মীয় নিয়ম মেনে পারলৌকিক কাজ করা হয়। শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে প্রতীকী নিবেদন হিসেবে রাখা হয় কয়লা, বালি, মাটি, পাথর এবং শেষ সংযোজন হিসেবে কাঁচা ডিম।
কর্মসূচির উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজেপি মুখপাত্র সুমন্ত মণ্ডল বলেন, "আসলে তৃণমূলের আর কোনো অস্তিত্ব নেই, প্রতীকও নেই। এদের প্রেতাত্মা যাতে সাধারণ মানুষকে আর কোনোভাবে উত্যক্ত করতে না পারে, সেই কারণেই এই পারলৌকিক কাজের আয়োজন করা হয়েছে।"
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক টানাপোড়েনে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। একদিকে কালীঘাট কেন্দ্রিক শিবির এবং অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী— উভয় পক্ষের সংঘাতের জেরে বিতর্ক গড়ায় নির্বাচন কমিশন পর্যন্ত। সম্প্রতি কমিশন দুই শিবিরকে আলাদা নাম ও নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ করে জোড়াফুল নাম ও চিহ্ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তের পরই দুর্গাপুরে বিজেপির এই প্রতীকী তর্পণ ও বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক রাজনৈতিক শোরগোল তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই ঘটনার মধ্য দিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বার্তা দেওয়া হলো— "ভয় আউট, ভরসা ইন"।