কাকদ্বীপে ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে আধুনিক RAS ব্যবস্থার উদ্বোধন, গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা•অবৈধ বালী পাচার রুখে দিল বিজেপি, পানাগড় সেনা ছাউনির সামনে ব্যাপক উত্তেজনা•সরকারি মহিলা শৌচাগারের পথ দখলের অভিযোগ, ছাতনা থানায় স্মারকলিপি দিলেন স্থানীয় মহিলারা•ঘাটাল থানার সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিকতা, ফিরিয়ে দিল ৪২ হাজার টাকার লটারী•রাতের অন্ধকারে এগরায় স্কুলে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য।•
ব্ল্যাকমেইলের জেরে কলেজ ছাত্রীর আত্মহত্যা, অবশেষে ডেবরায় গ্রেফতার অভিযুক্ত যুবক
By Reporter Sabyasachi June 18, 2026
Share:
অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল কলেজ ছাত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযুক্ত যুবক। ১৮ বছর বয়সী ওই যুবতীর আত্মহত্যার ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর, বুধবার দুপুরে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে মেদিনীপুর আদালতে পাঠিয়েছে ডেবরা থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডেবরা ব্লকের রাধামোহনপুর ১১/১ অঞ্চলের ভগবানবসান গ্রামের বাসিন্দা ওই যুবতী স্থানীয় একটি কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। গত কয়েকদিন আগে নিজের বাড়িতেই গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন তিনি। এই ঘটনার পরেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, ঘটনার ৭২ ঘণ্টা কেটে গেলেও পুলিশ মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারেনি। দোষীর শাস্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোমবাতি হাতে একটি মৌন মিছিলও করেন গ্রামবাসীরা।
যুবতীর মৃত্যুর পর তাঁর মোবাইল ফোনের তথ্য খতিয়ে দেখে পরিবারের হাতে আসে চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য। জানা গেছে, ডেবরা ৫/১ অঞ্চলের ধানতোড় গ্রামের বাসিন্দা এক যুবকের সাথে ওই কলেজ ছাত্রী পড়াশোনা করতেন। পরিবারের অভিযোগ—
বিগত প্রায় ৩ মাস ধরে ওই যুবক যুবতীটির ওপর মানসিক নির্যাতন চালাচ্ছিল।
যুবতীর কিছু অশ্লীল ভিডিও তুলে তা দিয়ে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেল করা হতো।
ব্ল্যাকমেলের ভয় দেখিয়ে যুবতীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা এবং সোনার গহনাও হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
এই চরম অপমান ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করতে না পেরেই ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে দাবি পরিবারের। মোবাইল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ডেবরা থানায় লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করে পরিবার। দোষীর চরম শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
পরিবারের পক্ষ থেকে এফআইআর দায়ের করার পরেই তৎপর হয়ে ওঠে ডেবরা থানার পুলিশ। বুধবার দুপুরে ধানতোড় গ্রাম সংলগ্ন এলাকা থেকে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের পর সেদিনই মেদিনীপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।