সোমবার দিল্লির বুকে তৃণমূলের এক ডজন সাংসদ স্পিকারের কাছে চিঠি দিয়ে আলাদা গোষ্ঠী বা 'তৃণমূল ব্লক' তৈরি করার যে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা নিয়ে এবার জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে তোলপাড় শুরু হয়ে গেল (TMC Split)। সরাসরি বিজেপিতে (BJP News) যোগ না দিয়ে 'দলত্যাগ বিরোধী আইন থেকে বাঁচতে' তৃণমূল সাংসদদের এই আইনি কৌশলকে এবার প্রকাশ্যেই তীব্র কটাক্ষ ও উপহাস করলেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury)।
লোকসভার স্পিকারের উদ্দেশ্যে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের চিঠি পাঠানো প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন,"এই সমস্ত রাজনৈতিক চাতুরি বা কারসাজিতে লিপ্ত না হয়ে, এই মানুষগুলোর পক্ষে সরাসরি এনডিএ-তে যোগ দেওয়াটাই বোধহয় অনেক ভাল হত। আসলে, এতদিন ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করার পর, যখন তাঁরা হেরে গেলেন, তখন তাঁরা বুঝতে পেরেছেন যে এবার বিজেপির শিবিরে চলে যাওয়াই শ্রেয়। তাই এত ঘুরিয়ে নাক না দেখিয়ে, তাঁদের পক্ষে সরাসরি বিজেপিতে যোগ দেওয়াটাই বেশি সমীচীন হত।"
তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের (Anti-Defection Law) খাঁড়া এড়াতে লোকসভার ভেতরে যেভাবে নতুন কৌশল নিয়েছেন, তাকে সোজা কথায় 'ভীতি' বলে ব্যাখ্যা করেছেন অধীর বাবু। তাঁর বক্তব্য, "বাইরে থেকে শুধুমাত্র দশম তফসিল (দলত্যাগ বিরোধী আইন) থেকে নিজেদের পিঠ বাঁচাতে এইভাবে আলাদা একটা উপদল বা গোষ্ঠী তৈরি করার মতো চাতুরির কোনও প্রয়োজনই ছিল না। তাঁরা যেহেতু দেশের অগ্রগতির কথা বলছেন, তাই তাঁদের পক্ষে সোজাসুজি বিজেপির সঙ্গেই মার্জার বা মিশে যাওয়াটা অনেক ভাল হত'।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সোমবার দিনভর দিল্লির রাজনীতিতে যে নাটক চলল, তাতে তৃণমূল যেমন একদিকে কোণঠাসা, তেমনই কংগ্রেসের এই আক্রমণাত্মক অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একদিকে কুণাল ঘোষ যখন দলের সংকটে 'রক্তে বেইমানি নেই' বলে বার্তা দিচ্ছেন, ঠিক তখনই অধীর চৌধুরীর এই মন্তব্য স্পষ্ট করে দিল যে— তৃণমূলের এই ভাঙনকে দিল্লির বিরোধী শিবির মোটেও ভাল চোখে দেখছে না। পরাজয়ের পর আইনি ঢাল বানিয়ে বিজেপির হাত ধরাকে অধীর চৌধুরী যেভাবে 'লুকোছাপা' বলে আক্রমণ করলেন, তা আগামী দিনে দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে তৃণমূলের এই বিদ্রোহী ব্লকের ওপর নৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল।