কাকদ্বীপে ইলিশের কৃত্রিম প্রজননে আধুনিক RAS ব্যবস্থার উদ্বোধন, গবেষণায় নতুন দিগন্তের সূচনা•অবৈধ বালী পাচার রুখে দিল বিজেপি, পানাগড় সেনা ছাউনির সামনে ব্যাপক উত্তেজনা•সরকারি মহিলা শৌচাগারের পথ দখলের অভিযোগ, ছাতনা থানায় স্মারকলিপি দিলেন স্থানীয় মহিলারা•ঘাটাল থানার সিভিক ভলান্টিয়ারের মানবিকতা, ফিরিয়ে দিল ৪২ হাজার টাকার লটারী•রাতের অন্ধকারে এগরায় স্কুলে চুরির ঘটনায় চাঞ্চল্য।•
রাজ্যসভার সাংসদ পদে ইস্তফা, তৃণমূলও ছাড়লেন সুখেন্দুশেখর রায়,
By Reporter Sabyasachi June 08, 2026
Share:
তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধাক্কা। সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি দল থেকেও পদত্যাগের ঘোষণা করলেন সুখেন্দু শেখর রায়। সোমবার তারপরই করলেন বিস্ফোরক মন্তব্য। তৃণমূল নিয়ে সমালোচনায় মুখর হলেন বর্ষীয়ান নেতা। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, 'তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি।
দল থেকেও পদত্যাগ করেছি।' এরপরই একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানিয়েছেন, 'সাম্প্রতিক অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচকমন্ডলী ১৫ বছর শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত তৃণমূল কংগ্রেস দলের বেলাগাম দুর্নীতি, চরম নারী নির্যাতন ও শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প, কর্মসংস্থান, আইনশৃঙ্খলাসহ সব ক্ষেত্রে শোচনীয় অপদার্থতাজনিত চরম নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সার্বিক অনাস্থা জ্ঞাপন করে ভারতীয় জনতা পার্টিকে বাংলার ইতিহাসে প্রথম বার বিপুল সংখ্যক আসনে জয়ী করেছেন। ইতিমধ্যে নবনির্বাচিত জনগণের সরকার তাদের দলের ঘোষিত নির্বাচনী সংকল্প অনুসারে বাংলার সার্বিক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের স্বার্থে একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছেন। আমি জনসাধারণের এই ঐতিহাসিক রায় নতমস্তকে গ্রহণ করে তৃণমূল কংগ্রেস দলের প্রাথমিক সদস্যপদ এবং রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করলাম।'
তাঁর দাবি, লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলের ভিতরে কোনও কারণ অনুসন্ধান করা হয়নি। সুখেন্দু শেখর রায়ের কথায়, 'মানুষ একটা দলের উপর অনাস্থা দেখিয়েছেন। মানুষের সঙ্গে এই দলের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'সিপিএম-কে সরিয়ে ক্ষমতায় আসাই এই দলের অন্যতম কর্মসূচি ছিল। কিন্তু যত দিন গিয়েছে, দেখা গিয়েছে দলের দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক চেহারা নিয়েছে।' প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে নিশানা করে সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, 'যখনই প্রশাসক মানুষের ভাষা বুঝতে অক্ষম হয়, তখনই তার পতন অনিবার্য।' এদিন তিনি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সম্পত্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর দাবি, 'তৃণমূলের সব জাতীয় নেতাদের সম্পত্তি খতিয়ে দেখা উচিত। সবকিছুর অডিট হওয়া দরকার।'
আর জি কর-কাণ্ড প্রসঙ্গে আগেও সরব হয়েছিলেন, আবারও সরব তিনি। সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, 'আর জি কর নিয়ে আমি সরব হয়েছিলাম, আলাদাভাবে ধর্নায় বসেছিলাম। মানুষ চেয়েছিলেন এই ঘটনার বিহিত হোক। পৃথিবীজুড়ে এই ঘটনার প্রতিবাদ হয়েছিল।'তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হবে, নিশ্চিত। তৃণমূলের অন্দরে ভাঙনের জল্পনার মাঝেই সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগ ও বিস্ফোরক অভিযোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।