Mon, May 11, 2026
 Network
Breaking News
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল: পিংলায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে পঞ্চায়েত অফিস ‘শুদ্ধিকরণ’ বিজেপি নেতৃত্বের প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা কর্মসূচি সকাল থেকে নবান্ন সভাঘরে সাজো সাজো রব সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কী ভাবে দেওয়া হবে, স্পষ্ট করলেন তা-ও কোন মন্ত্রিত্ব পেলেন দিলীপ ঘোষ? অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদেরও হয়ে গেল দফতর বণ্টন

অভিষেককে ঘিরে তৃণমূলে বিস্ফোরণ! নেতাদের মন্তব্যে অস্বস্তি, বিবৃতি জারি করল দল

Reporter Sabyasachi By Reporter Sabyasachi May 08, 2026
অভিষেককে ঘিরে তৃণমূলে বিস্ফোরণ! নেতাদের মন্তব্যে অস্বস্তি, বিবৃতি জারি করল দল
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে শুরু হয়েছে তীব্র আত্মসমালোচনা। আর সেই আবহেই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে সরাসরি দায়ী করে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসতে শুরু করেছে। যুবনেতা থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী- দলের একাধিক পরিচিত মুখ প্রকাশ্যে অভিষেকের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় রাজনৈতিক মহলে তুমুল চাঞ্চল্য

পরিস্থিতি সামাল দিতেই এবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করল তৃণমূল কংগ্রেস।

দলের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে দলের কয়েক জন নেতার যে মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মতামত। ওই সব বক্তব্যকে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তৃণমূলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "গণমাধ্যমে প্রকাশিত বা সমাজমাধ্যমে শেয়ার হওয়া এই ধরনের মন্তব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজস্ব মতামত। দলের অনুমোদিত চ্যানেলের মাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যই কেবলমাত্র দলের সরকারি অবস্থান হিসেবে বিবেচিত হবে।"

নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর থেকেই দলের অন্দরে ক্ষোভ জমতে শুরু করেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। অনেক নেতাই মনে করছেন, সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরনই দলের শিকড় দুর্বল করেছে।

এই আবহেই যুবনেতা কোহিনূর মজুমদার সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, "হারের পিছনে এক এবং একমাত্র কারণ অভিষেক ব্যানার্জি। দলটাকে কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে। যে দল মানুষের মধ্যে থাকার কথা, তাকে ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসকেন্দ্রিক করে ফেলা হয়েছে।" তাঁর দাবি, ১৯৯৮ সাল থেকে লড়াই করা পুরনো নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, মালদহের প্রবীণ তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী-ও কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। তাঁর মন্তব্য, "একজনই দলটাকে তিলে তিলে শেষ করে দিল।"

এছাড়াও নাটাবাড়ির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ঘোষ-সহ আরও কয়েক জন নেতা প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানানোয় অস্বস্তি বেড়েছে দলের অন্দরে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী ধাক্কার পর তৃণমূলের ভিতরে যে চাপা অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, এই ঘটনাগুলি তারই বহিঃপ্রকাশ। এখন দল কীভাবে পরিস্থিতি সামলায় এবং নেতৃত্বের প্রতি আস্থা পুনর্গঠন করে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।