রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল: পিংলায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে পঞ্চায়েত অফিস ‘শুদ্ধিকরণ’ বিজেপি নেতৃত্বের•প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা কর্মসূচি সকাল থেকে নবান্ন সভাঘরে সাজো সাজো রব•সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর•চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কী ভাবে দেওয়া হবে, স্পষ্ট করলেন তা-ও•কোন মন্ত্রিত্ব পেলেন দিলীপ ঘোষ? অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদেরও হয়ে গেল দফতর বণ্টন•
গঙ্গাসাগরে অমিত শাহ: সাগরের কপিলমুনি আশ্রমে পুজো দিয়ে নির্বাচনী প্রচারের অন্তিম লগ্নে শাহ
By Reporter Sabyasachi April 28, 2026
Share:
সন্দীপ দাস, গঙ্গাসাগর:
২৯ এপ্রিল সাগর বিধানসভার ভাগ্য নির্ধারণ। তার ঠিক আগে প্রচারের অন্তিম লগ্নে গঙ্গাসাগরের পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে হিন্দুত্বের আবেগ আর রাজনৈতিক কৌশল—দুইয়ের এক অনন্য সমীকরণ তৈরি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার সকালে কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিয়ে সাগরের পদ্ম-শিবিরের কর্মীদের জয়ের মন্ত্র দিলেন তিনি।এদিন সকাল ঠিক ন’টা নাগাদ আকাশপথে গঙ্গাসাগরের হেলিপ্যাড গ্রাউন্ডে পা রাখেন অমিত শাহ। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তাঁর কনভয় পৌঁছায় সমুদ্র সৈকতে। প্রথা মেনে সাগরের পবিত্র জলে স্নান সেরে তিনি সোজা চলে যান প্রাচীন কপিল মুনির আশ্রমে। সেখানে মহন্তের সান্নিধ্যে বেশ কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিশেষ পুজো দেন। আশ্রমে পুজো দেওয়ার পর তাঁকে আশ্রমের পক্ষ থেকে উত্তরীয় পরিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে এদিন সকাল থেকেই সাগরের অলিগলি ছিল বিজেপি সমর্থকদের দখলে। হেলিপ্যাড থেকে আশ্রম—পুরো এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছিল বিজেপির ঝাণ্ডা আর ফেস্টুনে। তাঁকে একপলক দেখার জন্য সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। ভিড় সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। আশ্রম থেকে বেরোনোর সময় মানুষের ভিড় দেখে অমিত শাহ গাড়ি থেকে হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর কেবল আধ্যাত্মিক নয়। ২৯ তারিখের লড়াইয়ে সাগর বিধানসভার প্রার্থী সুমন্ত মণ্ডলের হাত শক্ত করতেই শাহের এই ঝটিকা সফর। একদিকে তৃণমূলের তারকাবহুল প্রচার, আর অন্যদিকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের এই হিন্দুত্ব ও উন্নয়নের মিশেল—সাগর বিধানসভাকে এখন রাজ্যের অন্যতম ‘হটসিট’-এ পরিণত করেছে।
পুজো শেষে কলকাতার পরবর্তী কর্মসূচির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে অমিত শাহের এই সফর কর্মীদের মনোবল যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।