বাংলার লড়াইয়ে দিল্লিকে এক ইঞ্চিও জমি নয়': হাওড়া ময়দানের সভা থেকে হুঙ্কার মমতার
By Reporter Sabyasachi
April 25, 2026
আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে প্রচারের রণকৌশল সাজাতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই লক্ষ্যেই আজ হাওড়া ময়দান সংলগ্ন এলাকায় এক বিশাল জনসভায় যোগ দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখান থেকে কেন্দ্রীয় সরকার এবং বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।
'বঞ্চনা বনাম উন্নয়ন'
এদিনের বক্তৃতায় মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় ছিল মূলত কেন্দ্রীয় বঞ্চনা। হাওড়া ময়দান মেট্রো চ্যানেলের পাশেই আয়োজিত এই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে ইডি এবং সিবিআই-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে হাতিয়ার করছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, "দিল্লি থেকে ইডি-সিবিআই পাঠিয়ে বাংলাকে ভয় দেখানো যাবে না।" রাজ্যের পাওনা টাকা কেন্দ্র আটকে রেখেছে বলে ফের তোপ দাগেন তিনি। ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের ভূমিকার তীব্র নিন্দা করেন।
বাংলায় রেলের বিভিন্ন প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং রূপায়ণের সিংহভাগ কৃতিত্ব তাঁর রেলমন্ত্রী থাকাকালীন সময়ের। তিনি বলেন, "আমরা কাজ করি, আর ওরা কেবল ফিতে কাটতে আসে।"
২০২৬-এর নির্বাচনের আগে হাওড়া জেলাকে নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া তৃণমূল। এদিনের সভায় মানুষের ভিড় এবং দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তৃণমূল নেত্রীর গলায় এদিনের সুর ছিল অনেকটাই কড়া, যা পরিষ্কার করে দিচ্ছে যে আগামী দিনে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র হতে চলেছে।
উপস্থিত ছিলেন অরূপ রায়, ডা: রানা চ্যাটার্জী , নন্দিতা চৌধুরী , গৌতম চৌধুরী সহ জেলার তৃণমূল নেতৃত্ব এবং হাজার হাজার সমর্থক। এদিনের এই সভাকে কেন্দ্র করে হাওড়া ময়দান চত্বরে নিরাপত্তা ছিল আঁটোসাঁটো।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, বিজেপি ‘এসআইআর’-এর (SIR) মাধ্যমে বহু সাধারণ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বিজেপি চক্রান্ত করে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিলেও, তিনি দমে যাননি।
সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াই লড়ে তিনি ৩২ লক্ষ মানুষের নাম পুনরায় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, মোদী বাবু মনে রাখবেন ৩০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এস আই আর এ এবং ভোটের লাইনে ৪ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "মানুষ এই অন্যায় ক্ষমা করবে না।"
প্রধানমন্ত্রী মোদী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তার কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি,
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রথম সারির (নম্বর ওয়ান র্যাঙ্ক) শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের গরিমাকে ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ছাত্রদের আক্রমণ করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে 'নৈরাজ্য' চলছে বলে দাবি করেছেন, তার প্রতিবাদ হওয়া উচিত।
কেন্দ্রের অসহযোগিতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) কি এক পয়সাও দিয়েছেন?"
মুখ্যমন্ত্রী মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী যেভাবে ছাত্র সমাজকে অপমান করেছেন, তার বিরুদ্ধে ছাত্র ও যুব সমাজের গর্জে ওঠা উচিত। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না।
"বিজেপি মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে, আর আমি লড়াই করে নাম ফেরাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে অপমান করছেন, অথচ সেখানে কোনো অনুদান দেন না। ছাত্র ও যুব সমাজের উচিত এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা।" মমতা বন্দোপাধ্যায় এদিনের সভা থেকে কটাক্ষের সুরে বলেন, আজকে আবার উনি নৌকা বিহার করেছেন। আমি বলি বাংলার গঙ্গা আর আপনার দিল্লির যমুনা মিলিয়ে নিন। বাংলার গঙ্গা পরিষ্কার তাই নৌকা বিহার করে হাওয়া খেয়েছেন সকালবেলায়। চ্যালেঞ্জ করছি। গঙ্গায় নৌকা বিহার করেছেন ভালো করেছেন। স্বাগত। আমি পুজোর সময় নৌকা বিহার করতে করতে চন্দননগর যাই, গঙ্গাসাগরেও যাই। আপনি একবার যমুনা নদীতে দিল্লিতে গিয়ে ডুব দিয়ে আসবেন? সভার শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার ডাক দিয়ে বলেন, "একসাথে লড়াই করুন, মানুষের পাশে থাকুন। মনে রাখবেন, বাংলাই পথ দেখাবে ভারতকে।"