রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল: পিংলায় গঙ্গাজল ছিটিয়ে পঞ্চায়েত অফিস ‘শুদ্ধিকরণ’ বিজেপি নেতৃত্বের•প্রথম দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর ঠাসা কর্মসূচি সকাল থেকে নবান্ন সভাঘরে সাজো সাজো রব•সরকারি চাকরি পাওয়ার বয়স পাঁচ বছর বৃদ্ধি, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর•চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না! ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর, কী ভাবে দেওয়া হবে, স্পষ্ট করলেন তা-ও•কোন মন্ত্রিত্ব পেলেন দিলীপ ঘোষ? অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদেরও হয়ে গেল দফতর বণ্টন•
পিএম-সিএম একসাথে হলে উন্নয়ন “দিনে-রাতে”: কাকদ্বীপ থেকে পরিবর্তনের বার্তা প্রধানমন্ত্রী মোদীর
By Reporter Sabyasachi April 23, 2026
Share:
সন্দীপ দাস, কাকদ্বীপ:
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার কাকদ্বীপে শক্তি প্রদর্শনে নামলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। বৃহস্পতিবার কাকদ্বীপ স্টেডিয়াম মাঠের জনসভা থেকে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণের পাশাপাশি বিজেপির সরকার গঠনের ব্যাপারে জোরালো বার্তা দিলেন তিনি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এই সভা ঘিরে সকাল থেকেই জেলায় উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। বেলা দু’টো নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার নামতেই ‘মোদী মোদী’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা সভামঞ্চ।
মঞ্চে উঠে বাংলা ভাষাতেই বক্তব্য শুরু করেন মোদী। তবে এদিনের ভাষণের মূল আকর্ষণ ছিল তাঁর নতুন স্লোগান—
“পিএম এবং সিএম একসাথে, উন্নয়ন হবে দিনে-রাতে।”
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, ২০২৬ সালে বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বেই এবং কেন্দ্র-রাজ্যের সমন্বয়ে উন্নয়নের গতি বহুগুণ বাড়বে। তাঁর কথায়, “বাংলার মানুষ মনস্থির করে ফেলেছেন। সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন আর দূরে নয়।”
রাজ্য সরকারকে নিশানা করে মোদী বলেন,
“মা-মাটি-মানুষের নামে দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির রাজ চলছে। মৎস্যজীবী, কৃষক—সকলেই বঞ্চিত। নদী বাঁধের স্থায়ী সমাধান হয়নি, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা আটকে রাখা হয়েছে।”
তৃণমূলের নাম না করেই তিনি কটাক্ষ করেন, “ওদের বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গিয়েছে, তাই এখন ভয় দেখানোর চেষ্টা চলছে।”
এদিনের সভায় সাগর, নামখানা ও কাকদ্বীপ-সহ জেলার একাধিক কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীরা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের হাত তুলে ধরে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় এক অন্য আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়, যখন কয়েকজন খুদে সমর্থক প্রধানমন্ত্রীর হাতে তাঁদের আঁকা ছবি তুলে দেয়। ছবি দেখে মোদী জানান, তিনি তাঁদের উদ্দেশ্যে চিঠি পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে কাকদ্বীপে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা। এসপিজি ও রাজ্য পুলিশের কড়া নজরদারিতে স্টেডিয়াম চত্বর ঘিরে ফেলা হয়। প্রবেশপথে মেটাল ডিটেক্টর ও কড়া তল্লাশির ব্যবস্থাও ছিল চোখে পড়ার মতো। বিকেলে সভা শেষ হলেও, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের রেশ এখনো সুন্দরবনের অলিগলি থেকে চায়ের দোকানে—সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।