গভীর রাতে দল বেঁধে লোকালয়ে ঢুকেছিল হাতির দল। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই দেখা গেল, দল ফিরলেও পেছনেই পড়ে গেছে একটি ছোট্ট হাতির শাবক। নকশালবাড়ির কেটুগাবুর জোত এলাকায় রবিবার সাতসকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়াল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে নকশালবাড়ির ওই এলাকায় খাবারের খোঁজে ৬০-৭০টি হাতির একটি বিশাল দল জঙ্গল থেকে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। সারারাত তান্ডব চালিয়ে ভোরের দিকে হাতির দলটি জঙ্গলে ফিরে যায়। কিন্তু কোনওভাবে দলছুট হয়ে লোকালয়েই আটকে পড়ে একটি হাতির শাবক।
ভোর হতেই দেখা যায়, ছোট্ট শাবকটি দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে লোকালয়ের মধ্যে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। একদিকে হাতির বাচ্চার ছোটাছুটি, অন্যদিকে মা হাতিটি আশেপাশে কোথাও আছে কি না— সেই আতঙ্কে গ্রামবাসীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। খবর দেওয়া হয় বন দফতরে।
ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত এলাকায় পৌঁছায় পানিঘাটা ও টুকরিয়াঝাড় রেঞ্জের বনকর্মী এবং এলিফ্যান্ট স্কোয়াডের সদস্যরা। তবে ছোট্ট হাতিটিকে বাগে এনে জঙ্গলে ফেরাতে রীতিমতো কালঘাম ছুটে যায় বনকর্মীদের।
এই বিষয়ে পানিঘাটা রেঞ্জের রেঞ্জার প্রণব কুমার দাস জানান, "হাতির শাবকটি বেশ ছোট। মা ও দলের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ায় সে জঙ্গলে ফেরার পথ খুঁজে পাচ্ছে না। স্বাভাবিকভাবেই ভয় পেয়ে সে এভাবে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করছে। আমরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হাতিটিকে সুরক্ষিতভাবে পুনরায় জঙ্গলে প্রবেশ করানোর চেষ্টা চালাচ্ছি।"
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বনকর্মীরা শাবকটিকে তার দলের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার জন্য নিরাপদ করিডোর তৈরির চেষ্টা করছেন। তবে এই ঘটনায় এখনও থমথমে ও আতঙ্কিত হয়ে রয়েছে গোটা কেটুগাবুর জোত এলাকা।